আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি তাদের দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আর দলীয় প্রতীক কাস্তে নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত বাম প্রগতিশীল ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (মশাল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মই), গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য), গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর), সাম্যবাদী দল (চাকা) জাতীয় পার্টি- জেপি (বাইসাইকেল), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (কুঁড়েঘর), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা), তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ভাবছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরপরই নির্বাচনী দামামা বাজতে শুরু করেছে সারা দেশে। গ্রামগঞ্জসহ সর্বত্র বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ।
ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনও এ নির্বাচন আয়োজনে তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।
দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শাসক দল আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনে অংশ নিতে তৃণমূল পর্যায়ের চাপ আছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিতেও। দলটির প্রধান খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর তারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিএনপির প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে আছে। এর বাইরে থাকা প্রায় সব ক’টি রাজনৈতিক দলই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি মাথায় রেখে নয়া রাজনৈতিক ছক আঁকছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু এমপি যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় পার্টি বরাবরই নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। এই নির্বাচনে কাউকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শাসক দল আওয়ামী লীগের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। সিটি কর্পোরেশনের আদলে যদি সরকারি দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনও করতে চায় তাহলে তাদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জাতীয় পার্টিসহ দেশের মানুষ এ ধরনের নির্বাচন মেনে নেবে না।
জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই নির্বাচন যে কোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। মানুষ যাতে ভয় ও শঙ্কামুক্ত থেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে- সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিপিবি অংশ নেবে জানিয়ে দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক কাস্তে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্র করে আসন্ন নির্বাচনী সংগ্রামে সর্বশক্তি নিয়ে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য পার্টির সব স্তরের কমিটি ও সদস্যদের দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রার্থী তালিকায় পার্টির সদস্য, কর্মী, সমর্থক ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগরিত প্রগতিমনা, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সৎ, জনদরদি ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যত এক ধরনের প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। টাকার খেলা, পেশিশক্তি ও হোন্ডা-গুণ্ডার দাপট, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক ধূম্রজাল ইত্যাদি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়। আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনমত সংগঠিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম দুই প্রধান শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি যুগান্তরকে বলেন, তারা দলীয় প্রতীক হাতুড়ি নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নেবেন।
একই কথা বলেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তিনি বলেন, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ফোরামে আলোচনার পর সবাইকে জানানো হবে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনও এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল জাতীয় পার্টি-জেপি মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে শিগগিরই দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে দুই বামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এ প্রসঙ্গে বাসদের আহবায়ক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, আমরা সব সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করারও পক্ষে। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি। সেই আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবেই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেব। তবে এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কি হবে- তাও দেখার বিষয় রয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শাসক দল ও আমলাতন্ত্রের দাপটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং অনুকূল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নেব।
বাম প্রগতিশীল ঘরানার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল গণফোরাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে শনিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ উপলক্ষে এদিন বিকালে তারা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহবান করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে। তবে এক্ষেত্রে তাদের বেশকিছু প্রস্তাবনা রয়েছে।
দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপক্ষে আসম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আমরা দলগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপক্ষে। তবে আসন্ন নির্বাচন বর্জন করব কিনা সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশন অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে নির্বাচনে অংশ নিতেও পারি।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর
আর দলীয় প্রতীক কাস্তে নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত বাম প্রগতিশীল ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (মশাল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মই), গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য), গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর), সাম্যবাদী দল (চাকা) জাতীয় পার্টি- জেপি (বাইসাইকেল), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (কুঁড়েঘর), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা), তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ভাবছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরপরই নির্বাচনী দামামা বাজতে শুরু করেছে সারা দেশে। গ্রামগঞ্জসহ সর্বত্র বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ।
ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনও এ নির্বাচন আয়োজনে তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।
দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শাসক দল আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনে অংশ নিতে তৃণমূল পর্যায়ের চাপ আছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিতেও। দলটির প্রধান খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর তারা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিএনপির প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে আছে। এর বাইরে থাকা প্রায় সব ক’টি রাজনৈতিক দলই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি মাথায় রেখে নয়া রাজনৈতিক ছক আঁকছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু এমপি যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় পার্টি বরাবরই নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। এই নির্বাচনে কাউকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শাসক দল আওয়ামী লীগের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। সিটি কর্পোরেশনের আদলে যদি সরকারি দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনও করতে চায় তাহলে তাদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জাতীয় পার্টিসহ দেশের মানুষ এ ধরনের নির্বাচন মেনে নেবে না।
জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই নির্বাচন যে কোনো মূল্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। মানুষ যাতে ভয় ও শঙ্কামুক্ত থেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে- সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিপিবি অংশ নেবে জানিয়ে দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক কাস্তে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্র করে আসন্ন নির্বাচনী সংগ্রামে সর্বশক্তি নিয়ে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য পার্টির সব স্তরের কমিটি ও সদস্যদের দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রার্থী তালিকায় পার্টির সদস্য, কর্মী, সমর্থক ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগরিত প্রগতিমনা, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সৎ, জনদরদি ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কার্যত এক ধরনের প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। টাকার খেলা, পেশিশক্তি ও হোন্ডা-গুণ্ডার দাপট, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক ধূম্রজাল ইত্যাদি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায়। আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী সংস্কারের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনমত সংগঠিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম দুই প্রধান শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি যুগান্তরকে বলেন, তারা দলীয় প্রতীক হাতুড়ি নিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নেবেন।
একই কথা বলেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তিনি বলেন, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় ফোরামে আলোচনার পর সবাইকে জানানো হবে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনও এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল জাতীয় পার্টি-জেপি মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে শিগগিরই দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে দুই বামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এ প্রসঙ্গে বাসদের আহবায়ক খালেকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, আমরা সব সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করারও পক্ষে। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি। সেই আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবেই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেব। তবে এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কি হবে- তাও দেখার বিষয় রয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শাসক দল ও আমলাতন্ত্রের দাপটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং অনুকূল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নেব।
বাম প্রগতিশীল ঘরানার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল গণফোরাম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে শনিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ উপলক্ষে এদিন বিকালে তারা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহবান করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে। তবে এক্ষেত্রে তাদের বেশকিছু প্রস্তাবনা রয়েছে।
দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপক্ষে আসম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আমরা দলগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপক্ষে। তবে আসন্ন নির্বাচন বর্জন করব কিনা সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশন অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে নির্বাচনে অংশ নিতেও পারি।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন