স্বামী সন্তান নিয়ে ভালো আছেন রেশমা

স্বামী সন্তান নিয়ে ভালো আছেন রানা প্লাজার সেই বহুল আলোচিত এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া রেশমা। এরই মধ্যে তার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে কন্যাসন্তান।
তার নাম রেখেছেন রেদওয়ানা। ১০ মার্চ রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে রেদওয়ানার জন্ম হয়েছে। গত বছরের ১৪ জানুয়ারি আতাউর রহমান রাব্বির সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

রাজধানীর কালাচাঁদপুর পাকা মসজিদের পাশে ৭ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় দুই রুমের একটি ছিমছাম বাসায় স্বামী-সন্তানসহ বসবাস করছেন রেশমা।

ওই বাসায় বসে শনিবার বিকালে যুগান্তরের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন রানা প্লাজার সাবেক গার্মেন্টকর্মী রেশমা আক্তার।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার হন রেশমা। পরে তাকে নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন কোম্পানি তাকে চাকরির অফার দেয়। তিনি বেছে নেন রাজধানীর পাঁচ তারকা ওয়েস্টিন হোটেলকে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ৬ জুন হোটেল ওয়েস্টিনের হাউসকিপিং বিভাগে পাবলিক অ্যাম্বাসেডর পদে চাকরি পান রেশমা। এখনও তিনি ওই পদে চাকরি করছেন। সার্ভিস চার্জ ৩০ হাজার টাকাসহ বেতন পান ৩৫ হাজার টাকা। বছরে আড়াই হাজার টাকা করে দুই ঈদে বোনাসও পান।মৃত্যুঞ্জয়ী সেই রেশমার কাঁধে এখন পুরো সংসারের দায়িত্ব।

১২ জানুয়ারি থেকে চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন রেশমা। এ ছুটি আরও সাত দিন বাড়িয়ে নিতে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে শনিবার কর্মস্থল হোটেল ওয়েস্টিনে গিয়েছিলেন। আবেদনপত্রও জমা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে হোটেল ওয়েস্টিন এইচআর শাখার কো-অর্ডিনেটর সুফিয়া খাতুন ইভা জানান, রেশমার চার মাসের ছুটি শেষ পর্যায়ে। ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।
 
রেশমার স্বামী রাব্বি জানান, একমাত্র কন্যাসন্তানের জন্য একটি ডিপিএস করবেন। মেয়ে রেদওয়ানাকে ভালো জায়গায় পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চান তারা।

রেশমা-রাব্বি দম্পতি জানায়, একমাত্র সন্তানকে নিয়েই এখন তাদের সব ভাবনা। ওয়েস্টিনে চাকরি নেয়ার পর কালাচাঁদপুরে বাসা ভাড়া নেন তারা। ১৪ বছর ধরে ওই এলাকায় থাকতেন রাব্বি। রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসার সময় রেশমার সঙ্গে পরিচয়সূত্রেই তাদের বিয়ে।

রেশমা জানান, রানা প্লাজায় অবস্থিত গার্মেন্ট কারখানায় কাজ শুরু করেন ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল। দুর্বিষহ সেই সময়ের কথা মনে হলে এখনও ভয়ে কেঁপে ওঠেন রেশমা। একটু ভূমিকম্প হলেই তিনি মনে করেন এই বুঝি ভবন ধসে পড়ছে। যখন একা থাকেন, তখন বেশি ভয় হয়।

রানা প্লাজার দুর্বিষহ অবস্থার বর্ণনা করে তিনি বলেন, সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা বাসি-পচা খাবার খেয়ে তার ১৭ দিন কেটেছে। ওই কয়েকদিন আশপাশে যা পেয়েছেন, তাই খেয়েছেন। রেশমা জানান, ওয়েস্টিন থেকে তিনি যে টাকা বেতন পান তা দিয়ে নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি বাড়িতে কিছু টাকা মাকে দেন।
 
রেশমা আক্তারের বাবা আনসার আলী। মা জোবেদা বেগম। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানার কুশিগাড়ি গ্রামে তার বাড়ি। ১৯৯৪ সালের ৩ আগস্ট রেশমার জন্ম। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট রেশমা। বাবা আনসার আলী মারা যাওয়ার পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন বাবুল মিয়াকে।

বাবুল মিয়া বলেন, রাব্বি বেকার ছেলে। তার কোনো ইনকাম নেই। রেশমার আয়েই রাব্বির সংসার চলছে। মাঝে মধ্যে মাকে ৫০০-১০০০ করে টাকা পাঠায়। সে এখন ইট ভেঙে সংসার চালায়।

মা জোবেদা খাতুন জানান, মেয়ে পাঁচ তারকা হোটেলে চাকরি করলেও তাদের ভাগ্যের উন্নতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী যে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন তিনি শুধু ওই টাকা পেয়েছেন। তাছাড়া তিনি অন্য কোনো সাহায্যের টাকা পাননি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি বাড়ি তৈরি করলেও নিতান্ত অনটনে চলছে তার দিন।
Share on Google Plus

About MONOJ SARKER

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন