চৈত্রের তাপদাহ নয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমও নয়। এ যে শরতের ভ্যাপসা গরম। দিনদিন তাপমাত্রা বাড়ছে। শরতের এই দিনেও তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৪০-এ ওটা নামা করছে। ফলে শরতের এই দিনেও প্রচণ্ড গরমে অস্থির হয়ে উঠছে চারপাশ।
সর্বত্রই অস্বস্তিকর অবস্থা। বৃষ্টির দেখা না থাকায় আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কয়েকদিন ধরে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে...। পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অবস্থার কারণে তাপমাত্রার চেয়ে আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি মাত্রার গরম অনুভূত হচ্ছে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এই গরমে। চরম এ গরমের অজুহাতে কিন্তু বসে থাকার সুযোগ নেই কর্মমুখী মানুষের। নানা কাজে, এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে হয়। শরতের এই ভ্যাপসা গরমে সবচে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী ও শিশুরা। কর্মজীবী নারী ও স্কুল-কলেজমুখী ছাত্রছাত্রীদের পড়তে হয় সীমাহীন বিড়ম্বনায়। আর গরমে মানুষের রোগ-শোকও বাড়ছে। এই অবস্থায় ফিট রাখতে হবে নিজেকে। কীভাবে সুস্থ থাকবেন, সারাদিন সতেজ রাখবেন দেহমন? সে বিষয়ই কিছু টিপস।
*সুতির হাল্কা জামা-কাপড় পরুন
*এ সময় ডাবের পানি বা তাজা ফলের রস উপকারী
*রোদ থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি বা আইসক্রিম খাবেন না
*বেশি পানিযুক্ত হাল্কা খাবার খান
*প্রচণ্ড রোদে অপ্রয়োজনে ঘর হতে বের হবেন না
*নুন-চিনি-লেবু পানি ঘন ঘন খান
*ঠাণ্ডা নয়, স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি খান
*ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন
*এসি রুম থেকে বারবার ঢোকা-বেরোনো ঠিক হবে না
*চা বা কফি বেশি খাবেন না
*অতিরিক্ত প্রসাধন ব্যবহার করবেন না
*বেশি তেল, বেশি ঝাল ও বেশি মশলার খাবার খাবেন না।
শরতের এ ভ্যাপসা গরমে সতেজ থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর গ্যাস্টোলিভার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের চিফ ডায়েটিশিয়ান
সেলিনা বদরুদ্দিন বলেন, এই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার জন্য ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জ্বর-সর্দি-কাশির কারণ মূলত দুটি। বাতাসে এখন এক ধরনের ভাইরাস খুবই সক্রিয়। সেই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রামিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাচির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাস। সর্দি-জ্বর-কাশির অন্য কারণ হল, গরম থেকে এসে ঠাণ্ডায় বসা কিংবা অস্বস্তি কাটাতে বাইরে থেকে ঘুরে এসে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খাওয়া। তবে জীবাণু আক্রমণ করলে তা ঠেকানোর জন্য অ্যান্টিব্যায়োটিকের দাওয়াই রয়েছে। যার শরীর যত বেশি কাহিল হয়ে পড়ে, তাকে ভাইরাস তত দ্রুত আক্রমণ করে। তাই শরীর যাতে সহজে কাহিল না হয়, তার জন্য নুন-চিনির শরবতকেই সব থেকে ভালো দাওয়াই বলে চিহ্নিত করেছেন জীবাণু বিশেষজ্ঞেরা।
কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সময় সতেজ ও সজীব থাকা যায়
*গরমে বেশি কেমিক্যালের ব্যবহার করলে ত্বকে প্রভাব পড়বে। চেষ্টা করুন অরগ্যানিক সাবান, অরগ্যানিক ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতে। গোসলের সময় আয়ুর্বেদিক সাবান ব্যবহার করুন।
*গরমে ঘামের ফলে শরীরে জমা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর হবে। দিনে ২ বার ফল বা নিম জাতীয় ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
*গরমে সতেজ থাকার সব থেকে বড় উপায় প্রচুর পানি খাওয়া। তাজা ফলের রস, ডাব খাওয়া দরকার। এর ফলে শরীরে পানির সমতা বজায় থেকে স্বাস্থ্য সতেজ লাগবে। চেহারাতেও যার প্রভাব পড়বে।
*গরমে সব থেকে বেশি সমস্যা হয় অতিরিক্ত ঘামের কারণে। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গিয়ে শরীর ক্লান্ত লাগে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ঘামের দুর্গন্ধে ভোগেন। ঘাম ও দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পেতে প্রচুর শাকসবজি ও ফল খাদ্য তালিকায় রাখা দরকার। বিশেষ করে শসা। এই গরমে নিয়মিত ফল, শসা খাওয়ার ফলে ঘাম কমবে, তৃষ্ণাও কম লাগবে। ঘামের দুর্গন্ধও কম হবে।
*গরমে রোজ ওয়াটার স্প্রে, অ্যালোভেরা জেল, ওয়েট টিস্যু জাতীয় জিনিস ব্যাগে রাখা দরকার। যখনই ক্লান্ত লাগবে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিয়ে রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিন বা অ্যলোভেরা জেল লাগিয়ে নিন।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর
সর্বত্রই অস্বস্তিকর অবস্থা। বৃষ্টির দেখা না থাকায় আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কয়েকদিন ধরে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে...। পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অবস্থার কারণে তাপমাত্রার চেয়ে আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি মাত্রার গরম অনুভূত হচ্ছে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এই গরমে। চরম এ গরমের অজুহাতে কিন্তু বসে থাকার সুযোগ নেই কর্মমুখী মানুষের। নানা কাজে, এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে হয়। শরতের এই ভ্যাপসা গরমে সবচে বেশি সমস্যায় পড়েন নারী ও শিশুরা। কর্মজীবী নারী ও স্কুল-কলেজমুখী ছাত্রছাত্রীদের পড়তে হয় সীমাহীন বিড়ম্বনায়। আর গরমে মানুষের রোগ-শোকও বাড়ছে। এই অবস্থায় ফিট রাখতে হবে নিজেকে। কীভাবে সুস্থ থাকবেন, সারাদিন সতেজ রাখবেন দেহমন? সে বিষয়ই কিছু টিপস।
*সুতির হাল্কা জামা-কাপড় পরুন
*এ সময় ডাবের পানি বা তাজা ফলের রস উপকারী
*রোদ থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি বা আইসক্রিম খাবেন না
*বেশি পানিযুক্ত হাল্কা খাবার খান
*প্রচণ্ড রোদে অপ্রয়োজনে ঘর হতে বের হবেন না
*নুন-চিনি-লেবু পানি ঘন ঘন খান
*ঠাণ্ডা নয়, স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি খান
*ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন
*এসি রুম থেকে বারবার ঢোকা-বেরোনো ঠিক হবে না
*চা বা কফি বেশি খাবেন না
*অতিরিক্ত প্রসাধন ব্যবহার করবেন না
*বেশি তেল, বেশি ঝাল ও বেশি মশলার খাবার খাবেন না।
শরতের এ ভ্যাপসা গরমে সতেজ থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর গ্যাস্টোলিভার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের চিফ ডায়েটিশিয়ান
সেলিনা বদরুদ্দিন বলেন, এই অস্বস্তিকর আবহাওয়ার জন্য ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জ্বর-সর্দি-কাশির কারণ মূলত দুটি। বাতাসে এখন এক ধরনের ভাইরাস খুবই সক্রিয়। সেই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রামিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাচির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাস। সর্দি-জ্বর-কাশির অন্য কারণ হল, গরম থেকে এসে ঠাণ্ডায় বসা কিংবা অস্বস্তি কাটাতে বাইরে থেকে ঘুরে এসে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খাওয়া। তবে জীবাণু আক্রমণ করলে তা ঠেকানোর জন্য অ্যান্টিব্যায়োটিকের দাওয়াই রয়েছে। যার শরীর যত বেশি কাহিল হয়ে পড়ে, তাকে ভাইরাস তত দ্রুত আক্রমণ করে। তাই শরীর যাতে সহজে কাহিল না হয়, তার জন্য নুন-চিনির শরবতকেই সব থেকে ভালো দাওয়াই বলে চিহ্নিত করেছেন জীবাণু বিশেষজ্ঞেরা।
কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সময় সতেজ ও সজীব থাকা যায়
*গরমে বেশি কেমিক্যালের ব্যবহার করলে ত্বকে প্রভাব পড়বে। চেষ্টা করুন অরগ্যানিক সাবান, অরগ্যানিক ফেস ওয়াশ ব্যবহার করতে। গোসলের সময় আয়ুর্বেদিক সাবান ব্যবহার করুন।
*গরমে ঘামের ফলে শরীরে জমা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর হবে। দিনে ২ বার ফল বা নিম জাতীয় ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
*গরমে সতেজ থাকার সব থেকে বড় উপায় প্রচুর পানি খাওয়া। তাজা ফলের রস, ডাব খাওয়া দরকার। এর ফলে শরীরে পানির সমতা বজায় থেকে স্বাস্থ্য সতেজ লাগবে। চেহারাতেও যার প্রভাব পড়বে।
*গরমে সব থেকে বেশি সমস্যা হয় অতিরিক্ত ঘামের কারণে। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গিয়ে শরীর ক্লান্ত লাগে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ঘামের দুর্গন্ধে ভোগেন। ঘাম ও দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পেতে প্রচুর শাকসবজি ও ফল খাদ্য তালিকায় রাখা দরকার। বিশেষ করে শসা। এই গরমে নিয়মিত ফল, শসা খাওয়ার ফলে ঘাম কমবে, তৃষ্ণাও কম লাগবে। ঘামের দুর্গন্ধও কম হবে।
*গরমে রোজ ওয়াটার স্প্রে, অ্যালোভেরা জেল, ওয়েট টিস্যু জাতীয় জিনিস ব্যাগে রাখা দরকার। যখনই ক্লান্ত লাগবে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিয়ে রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিন বা অ্যলোভেরা জেল লাগিয়ে নিন।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন