২০১২ থেকে ২০১৫। মাঝে ব্যবধান তিন বছর। এর মধ্যেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। সাফল্যও ধরা দিয়েছে স্বল্প সময়ে। অথচ অচেনা পথে যখন নেমেছিলেন, তখন শুরুটা মসৃণ ছিল না।
দু-তিনজনের সেই দলটি আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়েছেন। এখন সে পথে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন শতজনকে। লক্ষ্য এখন অনেক রাস্তা পেরুনোর।
দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিভি ক্রিয়েটিভস ও ভিভিড টেকনোলজিস এমন একটি লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়ার পেছনে আছেন বিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আহমেদ নীরব ও ভিভিডের মো. এনামুল করিম। এ দুটি আলাদা কোম্পানি হলেও একসঙ্গে কাজ শুরু করে ২০১৩ সাল থেকে। কোম্পানি ক্যাটাগরিতে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ পেয়েছে উভয় কোম্পানি। আগের বছরও সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করে ভিভিড পেয়েছে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৪। দেশীয় কোম্পানি হলেও এর একটি শাখা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের পথচলার বিষয়ে কথা হয় বিভি ক্রিয়েটিভসের এমডি কাওসার আহমেদ নীরবের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন তাদের সাফল্যের কথা।
শুরুর গল্প : নীরব যশোরে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে চলে আসেন রাজধানীতে। ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। ২০১২ সালের মে মাসে বন্ধু আতিকুর রহমানের সঙ্গে মহাখালীর একটি চায়ের দোকানে আড্ডায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। তার ভাষায়, সেদিন আসলে কথা হচ্ছিল চাকরি যদি করি তাহলে পরিবেশ কেমন পাব কিংবা নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ থাকবে কিনা এগুলো নিয়ে। ভবিষ্যৎ কেমন হবে এসব নিয়েও কথা হয়। ততদিনে অবশ্য বায়িং হাউস নিয়ে ছোট একটা কাজ ও আইটির কিছু অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল। একসময় আড্ডা শেষে বাসায় ফেরেন তারা। তবে নিজের একটি কোম্পানি দাঁড় করানোর খুব ইচ্ছা ছিল নীরবের। সেটি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। নিজের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে গবেষণাও করতে থাকেন। একপর্যায়ে মাথায় ঘুরপাক খাওয়া আইডিয়ার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বড় ভাই আহসান কবির লিটনকে। যিনি এখন বিভি ক্রিয়েটিভসের চেয়ারম্যান এবং পার্টনার। নীরব বলেন, সবকিছু শুনে তার বড় ভাই তাকে শুরুর দিকে সাহস দিলেন। বড় ভাইয়ের কথায় আস্থা রেখে শুরু হল তার পথচলা। একটি ল্যাপটপ ও মডেম নিয়ে নিজের রুমেই শুরু করেন কাজ। তরুণ এ উদ্যোক্তা বলেন, আমার সৌভাগ্য ভালোই ছিল। কেননা দ্রুত কাজের জন্য কয়েকজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকে পেয়ে যাই। যারা এখনও সঙ্গে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আপেল মাহমুদ খান এখন হেড অব ক্রিয়েটিভস সার্ভিস। পরিচয়ের তৃতীয় দিনের মাথায় তিনি নীরবের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। প্রথমে একজন কর্মী, একটা ল্যাপটপ। তারপর আস্তে আস্তে শুরু করে এ অবস্থায় এসেছেন তারা।
সেবা : বিভি ক্রিয়েটিভস ও ভিভিড টেকনোলজিস মূলত কাজ করে গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজও করে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে দিন দিন চাহিদা বাড়ায় ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারি থেকে থ্রিডি ও অ্যানিমেশন কাজের জন্য ল্যাব স্থাপন করবে বিভি ক্রিয়েটিভস। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটির ডেক্সটপ পাবলিশিং ও ইমেজ এডিটিং বিভাগ চালু আছে। কর্মক্ষেত্র তৈরিতে নীরব বলেন, সরকার ছোট ছোট উদ্যোগগুলোর বিকাশে অনেক সাহায্য করছে। এ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করেছে। এ ক্ষেত্রে বেসিসের ভূমিকা অনেক। সরকার যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখে তাহলে এমন ছোট উদ্যোগ একসময় অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নিজেদের কোম্পানির উদাহরণ দিয়ে তরুণ এ উদ্যোক্তা জানান, তারা গত তিন-চার বছরে ১৫০-২০০ জনের কাজের জায়গা তৈরি করেছেন। কয়েক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা হাজার জন ছাড়িয়ে যাবে বলে তার আশা। বিভি ক্রিয়েটিভসের একটি শাখা আছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কাজ করছে ১২ জনের একটি দল। দেশে আছে বিভি ক্রিয়েটিভস ও ভিভিড টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৯৩ জন কর্মী।
বাধা : ব্র্যান্ডউইথে ইন্টারনেটের দাম কমানো হয়েছে। আইটি নিয়ে পুরো কাজটা যেহেতু নির্ভর করে ইন্টারনেটের ওপর, তাই দাম কমানোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে তা সরবরাহ করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন নীরব। এ ছাড়াও রেমিটেন্স আনার ব্যাপারে কিছু বাধা আছে এগুলোর সমাধান করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ : একটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি দাঁড় করতে গেলে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে বলে জানান বিভি ক্রিয়েটিভসের এ এমডি। তিনি বলেন, নতুন কিছু করতে হলে সে কাজের ভালো-মন্দের পুরোটা বিশ্লেষণ করতে হবে। তার মতে, আপনি কাজটাকে কীভাবে নিচ্ছেন, আপনার অনুভূতি, কাজটা ভালো লাগছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সেটার ওপরেই আপনার কাজটা নির্ভর করে। দ্বিতীয়ত, আপনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনি কীভাবে কাজটি করবেন সে ব্যাপারে ভাবতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই টিমের সদস্যদের মূল্যায়ন করতে হবে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনার টিম বা দল। আপনি যাদের নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন তাদের দক্ষতা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর কোম্পানির ভাগ্য নির্ভর করে। আসলে একটি ডেডিকেটেড দল পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। তাই স্টার্টআপ থেকে কোম্পানির ভিত্তি নির্ভর করে তাদের ওপর।
ভবিষ্যৎ : তাদের কোম্পানি বা কাজের ভবিষ্যৎ জানতে চাইলে নীরবের পাল্টা প্রশ্ন এলে আমাদের হারানোর কী আছে? পরিশ্রম করলে হারানোর কিছু নেই। আমাদের যা আছে তা হল মেধা। যার সাহায্যে আমরা এতদূর আসতে পেরেছি। সামনে অনেক পথ বাকি এখনও। তাই হারানোর ভয় নেই। এখানেই থেমে না গিয়ে সামনে আরও কর্মসংস্থান করাটাই বিভি ক্রিয়েটিভসের স্বপ্ন।
সূত্র : টেকশহর
দু-তিনজনের সেই দলটি আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়েছেন। এখন সে পথে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন শতজনকে। লক্ষ্য এখন অনেক রাস্তা পেরুনোর।
দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিভি ক্রিয়েটিভস ও ভিভিড টেকনোলজিস এমন একটি লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়ার পেছনে আছেন বিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আহমেদ নীরব ও ভিভিডের মো. এনামুল করিম। এ দুটি আলাদা কোম্পানি হলেও একসঙ্গে কাজ শুরু করে ২০১৩ সাল থেকে। কোম্পানি ক্যাটাগরিতে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ পেয়েছে উভয় কোম্পানি। আগের বছরও সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করে ভিভিড পেয়েছে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৪। দেশীয় কোম্পানি হলেও এর একটি শাখা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের পথচলার বিষয়ে কথা হয় বিভি ক্রিয়েটিভসের এমডি কাওসার আহমেদ নীরবের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন তাদের সাফল্যের কথা।
শুরুর গল্প : নীরব যশোরে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে চলে আসেন রাজধানীতে। ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। ২০১২ সালের মে মাসে বন্ধু আতিকুর রহমানের সঙ্গে মহাখালীর একটি চায়ের দোকানে আড্ডায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। তার ভাষায়, সেদিন আসলে কথা হচ্ছিল চাকরি যদি করি তাহলে পরিবেশ কেমন পাব কিংবা নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ থাকবে কিনা এগুলো নিয়ে। ভবিষ্যৎ কেমন হবে এসব নিয়েও কথা হয়। ততদিনে অবশ্য বায়িং হাউস নিয়ে ছোট একটা কাজ ও আইটির কিছু অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল। একসময় আড্ডা শেষে বাসায় ফেরেন তারা। তবে নিজের একটি কোম্পানি দাঁড় করানোর খুব ইচ্ছা ছিল নীরবের। সেটি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। নিজের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে গবেষণাও করতে থাকেন। একপর্যায়ে মাথায় ঘুরপাক খাওয়া আইডিয়ার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বড় ভাই আহসান কবির লিটনকে। যিনি এখন বিভি ক্রিয়েটিভসের চেয়ারম্যান এবং পার্টনার। নীরব বলেন, সবকিছু শুনে তার বড় ভাই তাকে শুরুর দিকে সাহস দিলেন। বড় ভাইয়ের কথায় আস্থা রেখে শুরু হল তার পথচলা। একটি ল্যাপটপ ও মডেম নিয়ে নিজের রুমেই শুরু করেন কাজ। তরুণ এ উদ্যোক্তা বলেন, আমার সৌভাগ্য ভালোই ছিল। কেননা দ্রুত কাজের জন্য কয়েকজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকে পেয়ে যাই। যারা এখনও সঙ্গে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আপেল মাহমুদ খান এখন হেড অব ক্রিয়েটিভস সার্ভিস। পরিচয়ের তৃতীয় দিনের মাথায় তিনি নীরবের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। প্রথমে একজন কর্মী, একটা ল্যাপটপ। তারপর আস্তে আস্তে শুরু করে এ অবস্থায় এসেছেন তারা।
সেবা : বিভি ক্রিয়েটিভস ও ভিভিড টেকনোলজিস মূলত কাজ করে গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজও করে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে দিন দিন চাহিদা বাড়ায় ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারি থেকে থ্রিডি ও অ্যানিমেশন কাজের জন্য ল্যাব স্থাপন করবে বিভি ক্রিয়েটিভস। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটির ডেক্সটপ পাবলিশিং ও ইমেজ এডিটিং বিভাগ চালু আছে। কর্মক্ষেত্র তৈরিতে নীরব বলেন, সরকার ছোট ছোট উদ্যোগগুলোর বিকাশে অনেক সাহায্য করছে। এ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করেছে। এ ক্ষেত্রে বেসিসের ভূমিকা অনেক। সরকার যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখে তাহলে এমন ছোট উদ্যোগ একসময় অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। নিজেদের কোম্পানির উদাহরণ দিয়ে তরুণ এ উদ্যোক্তা জানান, তারা গত তিন-চার বছরে ১৫০-২০০ জনের কাজের জায়গা তৈরি করেছেন। কয়েক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা হাজার জন ছাড়িয়ে যাবে বলে তার আশা। বিভি ক্রিয়েটিভসের একটি শাখা আছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কাজ করছে ১২ জনের একটি দল। দেশে আছে বিভি ক্রিয়েটিভস ও ভিভিড টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৯৩ জন কর্মী।
বাধা : ব্র্যান্ডউইথে ইন্টারনেটের দাম কমানো হয়েছে। আইটি নিয়ে পুরো কাজটা যেহেতু নির্ভর করে ইন্টারনেটের ওপর, তাই দাম কমানোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে তা সরবরাহ করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন নীরব। এ ছাড়াও রেমিটেন্স আনার ব্যাপারে কিছু বাধা আছে এগুলোর সমাধান করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ : একটি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি দাঁড় করতে গেলে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে বলে জানান বিভি ক্রিয়েটিভসের এ এমডি। তিনি বলেন, নতুন কিছু করতে হলে সে কাজের ভালো-মন্দের পুরোটা বিশ্লেষণ করতে হবে। তার মতে, আপনি কাজটাকে কীভাবে নিচ্ছেন, আপনার অনুভূতি, কাজটা ভালো লাগছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সেটার ওপরেই আপনার কাজটা নির্ভর করে। দ্বিতীয়ত, আপনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনি কীভাবে কাজটি করবেন সে ব্যাপারে ভাবতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই টিমের সদস্যদের মূল্যায়ন করতে হবে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনার টিম বা দল। আপনি যাদের নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন তাদের দক্ষতা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর কোম্পানির ভাগ্য নির্ভর করে। আসলে একটি ডেডিকেটেড দল পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। তাই স্টার্টআপ থেকে কোম্পানির ভিত্তি নির্ভর করে তাদের ওপর।
ভবিষ্যৎ : তাদের কোম্পানি বা কাজের ভবিষ্যৎ জানতে চাইলে নীরবের পাল্টা প্রশ্ন এলে আমাদের হারানোর কী আছে? পরিশ্রম করলে হারানোর কিছু নেই। আমাদের যা আছে তা হল মেধা। যার সাহায্যে আমরা এতদূর আসতে পেরেছি। সামনে অনেক পথ বাকি এখনও। তাই হারানোর ভয় নেই। এখানেই থেমে না গিয়ে সামনে আরও কর্মসংস্থান করাটাই বিভি ক্রিয়েটিভসের স্বপ্ন।
সূত্র : টেকশহর

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন