সাকিব আল হাসান বুঝি একই সময় দুটি ঈদের চাঁদ দেখলেন! সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রাজকন্যার মুখ দেখার একটু পরই খবর পেলেন মিরপুরে বাংলাদেশ ৫৮ রানে জিতেছে।
সাকিবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া ইমরুল কায়েসের ফিফটির পর আল-আমিন ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে আরেকটি দাপুটে জয়। প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিকরা থামে ২৪১-এ, এই রান তাড়া করতে নেমেও ১৮৩ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে। টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশর সিরিজ নিশ্চিত। এ বছর ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ সিরিজ জয়।
সবমিলিয়ে টানা পাঁচ হোম সিরিজ জয়। জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে পাঁচে পাঁচ করে ফেলল টাইগাররা। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।
গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েই শুরু হয়েছিল এই অবিস্মরণীয় জয়যাত্রা। কাল সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূরণ হল বৃত্ত।
প্রথম বাবা হওয়ার খবরটা সাকিব আল হাসান জানতে পেরেছেন, যখন তিনি দুবাই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন। সাকিবের বাবা হওয়ার খবরে সাবেক আইসিসি ও বিসিবি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। হাসিমুখে সাকিবকে বিদায় জানিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজাও।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য আবার দুঃসংবাদ না হয়ে আসে- এমন ভয় অনেকের মধ্যেই কাজ করছিল। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ থেমেছিল ভয় জাগানোর মতো রানে। ইমরুলের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিতে ২৪১/৯-এ থামে বাংলাদেশ।
সাকিব না থাকায় একজন বোলার কম নিয়ে খেলেছেন মাশরাফিরা। সাকিবের অভাব যে একেবারেই টের পাইনি বাংলাদেশ, তা ঠিক নয়।
শুরুতে আরাফাত সানি ও মাশরাফি চামু চাভাবা ও রেগিজ চাবাভাকে আউট করে ভালো শুরু করেছিলেন। এরপর আরভিনকে লিটন দাসের রানআউট ও উইলিয়ামসকে আউট করে মুস্তাফিজ সিরিজের প্রথম উইকেট নিলে সফরকারীদের স্কোর দাঁড়ায় ৭৮/৪।
ক্ষণিকের বিপর্যয় অবশ্য সফরকারীরা কাটিয়ে উঠেছিল এল্টন চিগুম্বুরা ও সিকান্দার রাজার ব্যাটে। পঞ্চম উইকেটে ৭৮ রানের জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তখনই ঘুরে-ফিরে আসছিল সাকিবের নাম। মাশরাফির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলা এ জুটি ভাঙেন আল-আমিন।
সিকান্দারকে ফিরিয়েই বুনো উল্লাসে মাতেন এই পেসার। তার উদযাপন নিয়ে মাঠেই আপত্তি তোলেন আম্পায়ার, সেখানেই ‘সরি’ বলেন আল-আমিন। এ আউটেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বাকিটা মুস্তাফিজুর রহমান ও নাসির মিলে শেষ করেছেন। নাসির হোসেন যেন শেষ উইকেট নেয়াটা রীতি বানিয়ে ফেলেছেন। কাল তিনি ফেরালেন ক্রেমারকে। ৩৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মুস্তাফিজ।
জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরার টস-ভাগ্য ঈর্ষণীয়। তবে প্রতিপক্ষ টস জেতায় মাশরাফিকে সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝামেলায় যেতে হয়নি। আগের ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৪৫ রানের বিশাল জয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতলে কি তাহলে ব্যাটিং নিতেন মাশরাফি! সেই ঝামেলায় না গিয়েই ব্যাটিংয়ে নামতে হল। প্রথম ম্যাচের উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটের পার্থক্য সামান্য। আগের ম্যাচে ৪০ রানে আউট হওয়া তামিম ইকবালের কাছে প্রত্যাশা ছিল বড় ইনিংসের ।
তবে সুযোগ পেয়েই যে ম্যাচের হাল ধরতে হবে, সেটা হয়তো ভাবেননি ইমরুল কায়েস। প্রথম সন্তানের মুখ দেখতে সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কারনে একাদশে জয়গা পেয়েছেন তিনি।
আগের ম্যাচের চেয়ে কাল শুরুটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস দ্রুত আউট হয়ে গেলে শুরুর চাপ আবারও পোহাতে হয় স্বাগতিকদের।
তিনাশে পানইয়ানগারার বলে দু’জনের আউটের ধরনও প্রায় একই রকম। ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটকিপারের গ্লাভসে বল। তামিম আউট হয়েছেন ১৯ রানে, লিটন ৭-এ।
প্রথম ম্যাচে ওপেনিং করেছিলেন লিটন, কাল ইমরুলকে জায়গা ছেড়ে দিতে তিনে খেলেছেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহ এ ম্যাচেও রান পেলেন না। ইমরুলের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়লেও তার অবদান মাত্র চার রান।
সাকিব নেই, তাই রানে ফেরা মুশফিকের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। দলকে নির্ভরতা দেয়ার মতোই শুরু করেছিলেন মুশফিক। কিন্তু উইকেটে সেট হওয়ার পর একটা বাজে বল খেলতে গিয়ে শর্ট-থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি (২১)। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শটে হাফ সেঞ্চুরি করা ইমরুলের দায়িত্ব তখন বেড়ে যায়। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। কিন্তু পরপর দুটি ছয় মারতে গিয়েই শন উইলিয়ামসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। ৮৯ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছয়ে ৭৬ রান করেন তিনি।
একসময় প্রথম ম্যাচের মতো অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নাসির হোসেন শেষ ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাল সুযোগ পেয়ে বড় স্কোর করতে না পারলেও ৪১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। সাব্বিরের ৩৩ ও নাসিরের ৪১-এ শেষ পর্যন্ত ২৪১ রানে থামে বাংলাদেশ।
যুগান্তর।
সাকিবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া ইমরুল কায়েসের ফিফটির পর আল-আমিন ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে আরেকটি দাপুটে জয়। প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিকরা থামে ২৪১-এ, এই রান তাড়া করতে নেমেও ১৮৩ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে। টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশর সিরিজ নিশ্চিত। এ বছর ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের এটি চতুর্থ সিরিজ জয়।
সবমিলিয়ে টানা পাঁচ হোম সিরিজ জয়। জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে পাঁচে পাঁচ করে ফেলল টাইগাররা। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।
গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েই শুরু হয়েছিল এই অবিস্মরণীয় জয়যাত্রা। কাল সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পূরণ হল বৃত্ত।
প্রথম বাবা হওয়ার খবরটা সাকিব আল হাসান জানতে পেরেছেন, যখন তিনি দুবাই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন। সাকিবের বাবা হওয়ার খবরে সাবেক আইসিসি ও বিসিবি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। হাসিমুখে সাকিবকে বিদায় জানিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজাও।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য আবার দুঃসংবাদ না হয়ে আসে- এমন ভয় অনেকের মধ্যেই কাজ করছিল। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ থেমেছিল ভয় জাগানোর মতো রানে। ইমরুলের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিতে ২৪১/৯-এ থামে বাংলাদেশ।
সাকিব না থাকায় একজন বোলার কম নিয়ে খেলেছেন মাশরাফিরা। সাকিবের অভাব যে একেবারেই টের পাইনি বাংলাদেশ, তা ঠিক নয়।
শুরুতে আরাফাত সানি ও মাশরাফি চামু চাভাবা ও রেগিজ চাবাভাকে আউট করে ভালো শুরু করেছিলেন। এরপর আরভিনকে লিটন দাসের রানআউট ও উইলিয়ামসকে আউট করে মুস্তাফিজ সিরিজের প্রথম উইকেট নিলে সফরকারীদের স্কোর দাঁড়ায় ৭৮/৪।
ক্ষণিকের বিপর্যয় অবশ্য সফরকারীরা কাটিয়ে উঠেছিল এল্টন চিগুম্বুরা ও সিকান্দার রাজার ব্যাটে। পঞ্চম উইকেটে ৭৮ রানের জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তখনই ঘুরে-ফিরে আসছিল সাকিবের নাম। মাশরাফির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলা এ জুটি ভাঙেন আল-আমিন।
সিকান্দারকে ফিরিয়েই বুনো উল্লাসে মাতেন এই পেসার। তার উদযাপন নিয়ে মাঠেই আপত্তি তোলেন আম্পায়ার, সেখানেই ‘সরি’ বলেন আল-আমিন। এ আউটেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বাকিটা মুস্তাফিজুর রহমান ও নাসির মিলে শেষ করেছেন। নাসির হোসেন যেন শেষ উইকেট নেয়াটা রীতি বানিয়ে ফেলেছেন। কাল তিনি ফেরালেন ক্রেমারকে। ৩৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার মুস্তাফিজ।
জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরার টস-ভাগ্য ঈর্ষণীয়। তবে প্রতিপক্ষ টস জেতায় মাশরাফিকে সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝামেলায় যেতে হয়নি। আগের ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৪৫ রানের বিশাল জয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতলে কি তাহলে ব্যাটিং নিতেন মাশরাফি! সেই ঝামেলায় না গিয়েই ব্যাটিংয়ে নামতে হল। প্রথম ম্যাচের উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটের পার্থক্য সামান্য। আগের ম্যাচে ৪০ রানে আউট হওয়া তামিম ইকবালের কাছে প্রত্যাশা ছিল বড় ইনিংসের ।
তবে সুযোগ পেয়েই যে ম্যাচের হাল ধরতে হবে, সেটা হয়তো ভাবেননি ইমরুল কায়েস। প্রথম সন্তানের মুখ দেখতে সাকিব আল হাসান যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কারনে একাদশে জয়গা পেয়েছেন তিনি।
আগের ম্যাচের চেয়ে কাল শুরুটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটির পর তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস দ্রুত আউট হয়ে গেলে শুরুর চাপ আবারও পোহাতে হয় স্বাগতিকদের।
তিনাশে পানইয়ানগারার বলে দু’জনের আউটের ধরনও প্রায় একই রকম। ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটকিপারের গ্লাভসে বল। তামিম আউট হয়েছেন ১৯ রানে, লিটন ৭-এ।
প্রথম ম্যাচে ওপেনিং করেছিলেন লিটন, কাল ইমরুলকে জায়গা ছেড়ে দিতে তিনে খেলেছেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহ এ ম্যাচেও রান পেলেন না। ইমরুলের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়লেও তার অবদান মাত্র চার রান।
সাকিব নেই, তাই রানে ফেরা মুশফিকের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। দলকে নির্ভরতা দেয়ার মতোই শুরু করেছিলেন মুশফিক। কিন্তু উইকেটে সেট হওয়ার পর একটা বাজে বল খেলতে গিয়ে শর্ট-থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি (২১)। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শটে হাফ সেঞ্চুরি করা ইমরুলের দায়িত্ব তখন বেড়ে যায়। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেও। কিন্তু পরপর দুটি ছয় মারতে গিয়েই শন উইলিয়ামসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল। ৮৯ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছয়ে ৭৬ রান করেন তিনি।
একসময় প্রথম ম্যাচের মতো অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নাসির হোসেন শেষ ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাল সুযোগ পেয়ে বড় স্কোর করতে না পারলেও ৪১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। সাব্বিরের ৩৩ ও নাসিরের ৪১-এ শেষ পর্যন্ত ২৪১ রানে থামে বাংলাদেশ।
যুগান্তর।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন