পৃথিবীর প্রবীণতম নাগরিক ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এমবাহ গথো। ১৪৫ বছরের জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন। দীর্ঘ জীবনের অনেক সুখ-দুঃখের সাক্ষী এই বৃদ্ধ এ বার জীবন থেকে ছুটি চাইছেন।
একটি ব্রিটিশ দৈনিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বের ‘প্রবীণতম’ মানুষ নিজের শেষ ইচ্ছের কথা বলে রেখেছেন। তিনি বলেছেন- ‘এখন আমি যেটা চাই সেটা হলো মৃত্যু। আর কিচ্ছু না। মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি তৈরি আমি।‘
এছাড়া ১৯৯২ সালে কবর দেয়ার জায়গাটা নিজেই কিনে রেখেছেন তিনি। এখন সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছেন গথো।
১৮৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার স্রাগেন এলাকা জন্মগ্রহণ করেন গথো। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গথোর পরিচয় পত্রে জন্মের যে সাল-তারিখটাও সঠিক।
সে হিসেবে গাথোই এখন বিশ্বের প্রবীণতম মানুষ। তবে গিনেস বোর্ড এ নিয়ে মুখ খোলেনি। নিজেদের মতো করে তথ্য যাচাই করে তবেই গথোকে বিশ্বের প্রবীণতম মানুষের আখ্যা দিতে পারে সংস্থাটি।
এত দিন পর্যন্ত ১২২ বছরের ফরাসি নাগরিক জঁ ক্যালমন্তকেই বিশ্বের প্রবীণতমা নাগরিক বলে ধরা হতো। ১৯৯৭ সালে মারা যান তিনি। তার পর ১২২ বছরের বেশি কেউ বেঁচে ছিলেন, এমন তথ্য কোনও সংস্থার রেকর্ডেই নেই।
তবে এসব রেকর্ড নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না গথো। শুধু চান পৃথিবীকে বিদায় জানাতে। নিজের সন্তানদের কবর যেখানে, তার পাশেরই কোনও কবরে নিশ্চিন্তে চিরনিদ্রায় থাকতে।
গথোর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ ভাই-বোন ছিল তাঁর। তবে তাঁদের কেউই এখন আর বেঁচে নেই। ছিলেন চার স্ত্রী এবং প্রচুর সন্তানও। একে একে সবাই তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন।
গথো এখন থাকেন নাতির পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের এক জন জানালেন, গথোর দৃষ্টিশক্তি এখন ক্ষীণ হয়ে গেছে। বেশ কয়েক বছর তিনি আর টিভি দেখতে পারেন না। তবে রেডিওতে নানা অনুষ্ঠান শুনেন।
শেষ তিন মাস বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না। চামচে করে খাইয়ে দিতে হয়। তবে কিছু বছর আগে পর্যন্তও নিয়মিত ধূমপান করতেন বৃদ্ধ। ছিল টানটান শরীরে হাঁটাচলার অভ্যাসও।
১৪৫ বছর ধরে গোটা পৃথিবী নিজের চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন গথো। দেখেছেন দুটি বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু এখন কোনো পরিবর্তনই আর টানে না তাকে।
এতগুলো বছর বেঁচে থাকার রহস্য জানতে চাইলে ১৪৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ বলেন, ‘ধৈর্য।‘ বেঁচে থাকার রসদ ছিল একমাত্র ওটাই।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন